তুই কি আমার দুঃখ হবি?

আনিসুল হক
তুই কি আমার দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচণ্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া।
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।
তুই কি আমার দুঃখ হবি?

তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি মার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুড়ে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি।

তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়
কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।

তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি মার একান্ত এক দুঃখ হবি?

এক গ্লাস অন্ধকার

রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
এক গ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি ।
শুন্যতার দিকে চোখ, শুন্যতা চোখের ভেতরও--
একগ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে একা বসে আছি ।

বিলুপ্ত বনস্পতির ছায়া, বিলুপ্ত হরিণ ।
মৌসুমি পাখির ঝাঁক পালকের অন্তরালে
তুষার গহন সৌরভ বয়ে আর আনে না এখন ।

দৃশমান প্রযুক্তির জটাজুটে অবরুদ্ধ কাল,
পুর্ণিমার চাঁদ থেকে ঝ'রে পড়ে সোনালি অসুখ ।
ডাক শুনে পেছনে তাকাই__কেউ নেই ।
এক গ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি একা......
সমকালীন সুন্দরীগণ অতিদ্রুত উঠে যাচ্ছে
অভিজাত বেডরুমে,
মুল্যবান আসবাবপত্রের মতন নির্বিকার ।
সভ্যতা তাকিয়ে আছে তাঁর অন্তর্গত ক্ষয়
আর প্রশংসিত পঁচনের দিকে ।

উজ্জলতার দিকে চোখ, চেয়ে আছি--
ডীপ ফ্রিজে হিমায়িত কষ্টের পাশেই প্রলোভন,
অতৃপ্ত শরীরগুলো খুঁজে নিচ্ছে চোরাপথ--সেক্‌সড্রেন ।

রুগ্নতার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা বিলাচ্ছে অপচয়--
মায়াবী আলোর নিচে চমৎকার হৈ চৈ, নীল রক্ত, নীল ছবি

জেগে ওঠে একখণ্ড ধারালো ইস্পাত--চকচকে,
খুলির ভেতর তাঁর নড়াচড়া টের পাই শুধু ।

ইতিমধ্যে ককটেলে ছিন্নভিন্ন পরিচয়, সম্পর্ক, পদবী --
উজ্জ্বলতার ভেতরে ফণা তুলে আর এক ভিন্ন অন্ধকার ।
গ্লাসভর্তি অন্ধকার উল্টে দিই এই অন্ধকারে ।